Did ‘Rangeela’ Predict the Future of Bollywood or Just Create Its Own Utopia?
‘রাঙ্গেলা’ কি বলিউডের ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিল নাকি শুধু নিজের ইউটোপিয়া তৈরি করেছিল?

১৯৯৫-এ ঘড়ি ফিরিয়ে দেখলে, রাঙ্গেলা শুধু একটা ছবি নয়—এটা ছিল সাংস্কৃতিক পুনঃস্থাপন। ম্যানিশ মলহোত্রার মাইক্রো-মিনিতে মোড়া উর্মিলা মাতোন্ডকর কেবল নায়িকা হিসেবে অভিনয় করছিলেন না, তিনি এক স্বপ্নে পরিণত হচ্ছিলেন। আর আর রহমানের ‘যাএ রে যাএ’র তালে তাঁর অগ্নিময় নাচ—যেন তাঁর শিরায় আগুন ঢুকে গেছে—এটি বলিউডের কামুকতার সংজ্ঞাই পাল্টে দিয়েছিল নগ্নতা ছাড়াই। ক্যামেরা তিরিক্ষি তাকানোর দরকার পায়নি; আনন্দটাই ছিল ভাবনা জাগানিয়া অস্ত্র।
আর আছে আমির খানের মুন্না—নরম সোনার হৃদয়ওয়ালা এক ট্যাপোরি। তিনি খল নন; খাকি ছাড়া পুলিশ ইউনিফর্মে আটকে থাকা প্রতিবেশীরের রোমিও। উর্মিলাকে তাঁর ডায়ালগগুলো শেখানোর সময় তাঁকে দেখলে বোঝা যায় — এটা খাঁটি, বিনিময়হীন ভালোবাসা। আর জি ভি কখনো এতটা হালকা ছবি আর বানাননি। তিনি কালো দুনিয়ায় ডুবে গেলেন—এক সমালোচকের কথায় 'গ্যাঙস্টারিজম' বিক্রি করেছেন। কিন্তু রাঙ্গেলা? বিশুদ্ধ অক্সিজেন।
মানুষজন এমন আচরণ করে যেন ম্যানিশ মলহোত্রা উর্মিলাকে তৈরি করেছিলেন। না। তিনি শুধু তাঁর বিদ্যুৎঝরা আভা কীভাবে ব্যবহার করতে হয় জানতেন। ওই নারী ঐ মুহূর্তে মুম্বইয়ের হৃদস্পন্দনের তাল হয়ে গেছিল। আর হাসি—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভগবান—সেই হাসিটা আত্মবিশ্বাসহীনতাকেও ফ্যাশনেবল করে দিয়েছিল।
সত্যি কথা বলি: রাঙ্গেলা শুধু তাই কাজ করেছিল কারণ উর্মিলা আসলে বিখ্যাত ছিলেন না। 'পাশের বাড়ির মেয়ে সুপারস্টার'—এই ধারা আসলে তখনই কাজ করে যখন মেয়েটি সত্যিই অচেনা। এখন ইনস্টাগ্রামে প্রতি সপ্তাহেই 'আবিষ্কার' হওয়া সিতারারা এসে পড়েছে—কারখানায় তৈরি হওয়া স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
মুন্না প্রেমিক নন। তিনি এক রূপক। মুম্বইয়ের রাস্তার স্বপ্নদ্রষ্টাদের প্রতি ভালোবাসার। সেই হলুদ প্যান্ট+গোফ+টুপির লুক? আইকনিক, কারণ এটা বলে—’আমি হিরো হতে পারি না, কিন্তু এই শহরের আত্মা আমি।’
হ্যাঁ ঠিকই। ঐ দৃশ্যটা মনে আছে যখন সে বলে ‘নাম তো সুনা হী হোগা’? এটা আত্মবিশ্বাস নয়। এটা হলো মাইক্রো-মিনিতে মোড়া এক সাহস।
এই আবেগ দুর্দান্ত হলেও, স্বীকার করুন: গল্পটা কাগজের মতো রূক্ষ। এটা এমন কথার কাহিনী যেখানে নৈতিক দ্বন্দ্বের সমাধান নেই। মিলি শুধু... জিতে যায়। কিন্তু তাও, এটাই হলো ম্যাজিক—কখনো স্বপ্নের লজিক লাগে না।
লোকে ভুলে যায় রাঙ্গেলা আসার আগে আর জি ভি নির্মাণ করেছিলেন কালো-সাদা গুন্ডামি ছবি। এটা ছিল তাঁর 'গ্লাস ভাঙার' মুহূর্ত। তিনি নিজের পরিসরকে প্রকাশ করেছিলেন যেটা তাঁকে কখনো দেয়া হয়নি। বেশিরভাগ পরিচালক তাঁদের শীর্ষ আসতেই হারিয়ে ফেলেন। আর জি ভি শীর্ষে উঠেছিলেন পেস্টেল রংয়ে।
মনে আছে না রীমা লাগু মায়ের চরিত্রে? এটা ছিল মাস্টারক্লাস। তাঁর চোখ ঐ আন্তরিক ভাবনা প্রকাশ করে যা উর্মিলার ডায়ালগ কখনও করতে পারে না। ঐ অভিনেত্রীর আলাদা স্পিন-অফ পাবার যোগ্যতা ছিল।
মুন্নার হৃদয়বিদারক মুহূর্তই আসল চূড়ান্ত দৃশ্য। যখন সে জ্যাকি শ্রফের পাশে দৌড়ে যায়? এটা শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটা নিরীহতার প্রতি বেঈমানি। রাঙ্গেলা তারকাত্ব নয়। এটা প্রেম যা সর্বোচ্চ দাম দেওয়ার জন্য বিক্রি হয়ে গেছে।