Is China Drawing a Red Line in Venezuela and Africa? What the First Diplomatic Trip of 2026 Really Means
চীন কি ভেনেজুয়েলা আর আফ্রিকায় একটি লাল রেখা টানছে? ২০২৬-এর প্রথম কূটনৈতিক সফরের আসল মানে কী?

তাই যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গৃহীত প্রেসিডেন্টদের সাথে 'আলোচনা' করতে ব্যস্ত আর গ্রিনল্যান্ডকে একটি ধনীদের দ্বীপ রিসোর্টের মত চোখ রেখেছে, সেখানে চীন নীরবে ২০২৬ শুরু করছে আফ্রিকান দেশগুলোতে সফরের মাধ্যমে—একটি ৩৬ বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে। কিন্তু মজার বিষয় হলো: শুধু ঐতিহ্য নয়। এই বছর চীন-আফ্রিকা সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী, আর ওয়াং ই আইইউ সদর দপ্তরে আফ্রিকা-চীন জনগণের মেলামেশার বছরের উদ্বোধন করছেন। নরম ভাবে? অবশ্যই। কিন্তু এটা হল কূটনীতির এক উচ্চপদের কৌশল।
আর তারপর আছে ভেনেজুয়েলা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করার হুমকি দেয়, আর লাতিন আমেরিকাকে 'পক্ষ বেছে নিতে' বলে। চীনের প্রতিক্রিয়া কী? ট্যাঙ্ক নয়, বরং শান্ত আইনি যুক্তি: 'এগুলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার।' এটা হল দাবা খেলার চাল, ঝগড়া নয়। কিন্তু যখন তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দুক নিয়ে মাঠে ঢুকছে, তখন দাবা খেলা কি যথেষ্ট?
কথার বোঝাপড়া ছাড়িয়ে আসি: চীনের উদ্দেশ্য কারুর সহানুভূতি নয়। আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকায় কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ছে। যখন সবাই 'ঋণ-ফাঁদ কূটনীতি' নিয়ে বিদ্রূপ করছিল, তখন তারা খনিজ সরবরাহ আর কৃষিজাত আমদানি নিশ্চিত করল। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে বলছে কার সাথে বাণিজ্য করতে হবে? এটা কূটনীতি নয়, অর্থনৈতিক জিম্মি ধরার উদাহরণ।
চীনের বক্তব্য দৃঢ়, কিন্তু প্রকৃত পদক্ষেপ কোথায়? ইরাক, লিবিয়া বা সিরিয়াকে থামায়নি শক্ত কথা। যদি রক্ষা করার শক্তি না থাকে, তবে সার্বভৌমত্বের কোনো অর্থ নেই। নীতি আমি বুঝি, কিন্তু তোমার মুখের সামনে ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে নরম ক্ষমতা কাজ করে না।
আগে সামরিক হস্তক্ষেপ 'কাজ করেছে' বলেই সেগুলো ঠিক হয় না। আন্তর্জাতিক আইন কোনো পরামর্শ নয়—এটি হল ভিত্তি। লঙ্ঘনের কথা বলা চীনের দুর্বলতা নয়; এটি নিয়ম বজায় রাখা। কে শান্তি রক্ষা করেছে, ইতিহাস সেটি বিচার করবে।
আফ্রিকা সফর কেবল প্রতীকী নয়। এটি কৌশলগত একতার প্রকাশ। দশকের পর দশক, আফ্রিকান জাতিগুলোকে লুটপাট করা হয়েছে। আজ চীন শাসন পরিবর্তনের দাবি ছাড়া অংশীদারিত্ব দেয়। এমন এক পৃথিবীই কি তবে আমরা চাই না?
সবুজ দিকটি হেলাফেলা করো না। আফ্রিকার হারানো দুর্লভ মৌলিক ধাতু আর সৌরশক্তির সম্ভাবনা, আর ভেনেজুয়েলার তেল—যদি চীন এগুলো টেকসইভাবে আয়ত্ত করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাইপলাইন নিয়ে বাগবিতণ্ডা করার সময় চীন সবুজ রূপান্তরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
বিষয়টিকে রূপকথার মত উপস্থাপন করো না। চীনেরও স্বার্থ আছে। এটা কি সত্যিকার ঐক্যের ব্যাপার, নাকি বৈশ্বিক সংকটের আগে সরবরাহ-শৃঙ্খলা বৈচিত্র্যকরণ? আমি এই অবস্থানের পক্ষে, কিন্তু আমরা এটাকে সেটাই ডাকুন: কৌশলগত হেডজিং।
তোকিও-র তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্যের পরই চীন জাপানের কাছে দুর্লভ মৌলিক ধাতু রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কেবল আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকার কথা নয়—চীন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ-শৃঙ্খলা শক্তি প্রদর্শন করছে। দুর্লভ মৌলিক ধাতু হচ্ছে ২১শ শতাব্দীর তেল।