India’s Youth Boom: Global Talent Goldmine or Ticking Time Bomb?
ভারতের যুবসমাজের উত্থান: বিশ্ববাজারে প্রতিভার খনি নাকি সময়ের সাথে সাথে বিস্ফোরণের প্রতীক?
ভারতের কাছে সংখ্যা আছে — ৬৫% জনসংখ্যা ৩৫ বছরের নিচে, এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে কর্মক্ষম জনসংখ্যা প্রায় এক বিলিয়নে পৌঁছবে। বিশ্ব দক্ষ শ্রমিকের জন্য চিৎকার করছে, আবার আমরা এখনও এমন একটি বৈপরীত্যে আটকে আছি যেখানে প্রতি বছর কোটি কোটি ছাত্র বাজার-তৈরি দক্ষতা ছাড়াই স্নাতক হয়।
দক্ষতা শেখানো মানে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয় — এটা একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং নমো ড্রোন দিদি’-এর মতো প্রকল্পের ওপর বাজি ধরেছি, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য শিক্ষায় প্রযুক্তি একীভূত করা আর মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন। জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ নিজে থেকে নগদীকরণ হয়ে যাবে না।
আমরা বারবার দক্ষতা শেখানো নিয়ে কথা বলি, কিন্তু তার প্রতিফলন কোথায়? বেশিরভাগ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানই শুধু সার্টিফিকেট বিতরণের কারখানা, যাদের চাকরি দেওয়ার রেকর্ড মাত্র শূন্য। মানুষকে প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না — শিল্পক্ষেত্রের সাথে সমন্বয়, ঋণদাতা (মেন্টর), আর প্রকৃত প্রশিক্ষণ দরকার।
মিশন শক্তি এবং লাখপতি দিদি দেখুন — বাস্তব মহিলা-কেন্দ্রিক কর্মসূচি এখন প্রভাব ফেলছে। প্রথমবার, দক্ষতা প্রশিক্ষণ শুধুমাত্র উপর থেকে নিচে আদেশ হিসেবে নয়; এটি কৃষিজ মহিলাদের কাছে আসছে প্রকৃত আর্থিক উৎসাহন সহ। এটিই ব্যবস্থাগত পরিবর্তন।
ডিড্যাক ইন্ডিয়া প্রমাণ করছে যে শিক্ষায় প্রযুক্তি আর পরীক্ষা নয় — এটা অপরিহার্য। আই আই টিউটর, ভিআর ল্যাব, স্মার্ট ক্লাসরুম; এগুলো আর মৌজ নয়। এগুলোই কীভাবে আমরা শহর ও গ্রামের ব্যবধান কাটব এবং গুণগত শিক্ষাকে সবার হাতের মুঠোয় আনব।
আপনার আশাবাদ মূল্যবান, কিন্তু ওই ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ কি কাজ করে যেখানে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট নেই? মৌলিক অবকাঠামো না থাকলে প্রযুক্তি সাহায্য করবে না। প্রবেশাধিকার ছাড়া ডিজিটালকরণ শুধু ডিজিটাল নাটক।
প্রতিটি দেশ শ্রম রপ্তানি করতে চায়। কিন্তু ভারত যখন তার যুবসমাজকে বিদেশে পাঠায়, তখন আমরা টাকা পাই — কিন্তু মস্তিষ্ক পলায়ন দীর্ঘমেয়াদী উদ্ভাবনকে মেরে ফেলে। কিভাবে আমাদের শ্রেষ্ঠ মনগুলো হারাতে হারাতে আমরা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ব?
যুবকদের শোষণের সম্পদ হিসেবে দেখা বন্ধ করুন। আমরা শুধু ‘জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ’ নই — আমরা স্বপ্নের মালিক মানুষ। সৃজনশীল শিক্ষায়, মানসিক স্বাস্থ্যে এবং নাগরিক অংশগ্রহণে বিনিয়োগ করুন। নইতে এমন এক প্রজন্ম অনুভব করবে যে তারা পেছনে পড়ে গেছে।
মজার কথা হচ্ছে, আমরা এখন মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে এমন চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যা এখনও তৈরি হয়নি, আবার আমাদের শহরগুলোতে মৌলিক সুবিধার ধস নজরে রাখছি না। দক্ষতা প্রশিক্ষণ একা আমাদের বাঁচাতে পারবে না যদি আমাদের শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়।
‘জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ’ একটি সময় সীমিত সুযোগ। টাইক টক। ২০৩৬ সালের মধ্যে ভারত হয় তার শ্রমকে মূলধনে রূপান্তরিত করবে, নয়তো বেকার যুবকদের সঙ্কট মুখোমুখি হবে। ঘড়ি অপেক্ষা করছে না।