Rajinikanth Drops Emotional Bombshell About Sreenivasan: Was He Really 'A Better Human Being'?
রজনীকান্ত স্রীনিবাসন নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য: সত্যিই কি তিনি ছিলেন 'একটি ভালো মানুষ'?
স্রীনিবাসনের মৃত্যুর খবর ভারতীয় চলচ্চিত্রের জগতে একটি নীরব ঝড়ের মতো আঘাত হেনেছে। শতাধিক চলচ্চিত্র, পাঁচ দশকের বুদ্ধি, বিচক্ষণতা ও খোলামনের গল্প বলার ঐতিহ্যকে ঘিরে তিনি কেবলমাত্র অভিনেতা ছিলেন না—তিনি ছিলেন সাংস্কৃতিক দিকনির্দেশক। তাঁর হাস্যরস সামাজিক ভণ্ডামির মধ্যে ছুরির মতো দৃঢ়ভাবে ঢুকে যেত, আর 'সন্দেশম' বা 'নডোডিক্কাট্টু'-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর লেখা শুধু বিনোদন করেনি—শিক্ষা দিয়েছে।
কিন্তু আমরা যেন স্মৃতিকে বাড়িয়ে তাঁর উত্তরাধিকারকে হালকা করে না ফেলি। স্রীনিবাসনের ছিল এমন এক বিরল উপহার: সমাজের সমালোচনা ঢুকিয়ে দেওয়া হাস্যরসের মধ্যে—ঘোড়ার মিনারের মতো। রজনীকান্তের সহজ শ্রদ্ধার্ঘ্য—'একটি ভালো মানুষের চেয়েও ভালো'—পুরস্কারের চেয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ঢের কিছু বলে দেয়। প্রকৃত দুঃখ হলো—আমরা শুধু এক মহান ব্যক্তিত্বকে হারাইনি, তাঁর চেয়েও বড়, সেই ধরনের শিল্পীদের হারিয়ে ফেলছি যাঁরা হালকা হাসির মধ্যেই নিরাপদভাবে কটাক্ষ ছুঁড়েছেন।
স্রীনিবাসন কেবল মজার ছিলেন না—তিনি হাসি হাতিয়ার বানিয়েছিলেন। 'সন্দেশম'-এর মতো ছবি রাজনৈতিক দলগুলির উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্রের মতো আঘাত করেছিল। সেসময় এমন হাস্যরস সম্ভব ছিল কারণ দর্শকরা বাস্তবতা চেয়েছিল—শুধু মিমস নয়। এখন আমরা গভীরতাহীন ভাইরাল হাসির লাইনদের মধ্যে ড়ুবে যাচ্ছি।
'লেসা লেসা'-তে তাঁর ভিবেকের সাথে সেই দৃশ্যটা মনে আছে? ওই একটা মুহূর্তে আমি হেসে হেসে অস্থির। মানুষ হয়তো রাজনৈতিক তাঁর সমালোচনা ভুলে যাবে, কিন্তু এমন কমেডি চিরকাল বেঁচে থাকবে।
সত্যি কথা বলুন—আজকের দিনে কতজন অভিনেতা রাজনীতিকদের সত্যিকার অর্থেই আঁচড়াতে পারবে আর তাঁদের বাঁচতে পারবে? স্রীনিবাসন ৯০-এর দশকে প্রকৃত সাহসের সঙ্গে এটি করেছিলেন—অ্যালগরিদম অনুমোদিত মজা নয়।
আমার বাবা ডিনারের সময় স্রীনিবাসনের সংলাপগুলো বারবার উচ্চারণ করতেন। আজ তিনি বারান্দায় একা একা কাঁদছেন। কিংবদন্তীরা মরে না। তাঁরা শুধু নীরব হয়ে যান।
চলচ্চিত্র জগত শোকপ্রকাশ করছে, কিন্তু হিসাবও চালাচ্ছে। স্রীনিবাসনের ছেলে—ধ্যান ও বিনীত—ইতিমধ্যে বড় নাম। এটা কেবল শোক নয়; ক্ষমতার উত্তরাধিকারের একটি পরিকল্পনা কাজ করছে।
ইউটিউব ক্লিপের মাধ্যমে আমি তাঁর হাস্যরস খুঁজে পেয়েছি। সরাসরি দেখার সুযোগ হারিয়েছি। এমন অনুভূতি হচ্ছে যেন সেই আত্মীয়কে হারালাম যাকে আমি কখনো সত্যিকার অর্থে দেখিনি, কিন্তু আত্মার ভিতরে খুব কাছাকাছি জানতাম।
হ্যাঁ, মহান মানুষ চলে যান। কিন্তু বিনীত স্রীনিবাসনকে দেখুন—তিনি মশাল এগিয়ে নিচ্ছেন। উত্তরাধিকার পাথরে গাঁথা থাকে না; তা নতুন গলায় আবার জাগে।
মৃত্যু শুধু শেষ নয়। এটি অনুপস্থিতির দ্বন্দ্ব—স্রীনিবাসন চলে গেলেও তিনি সব জায়গাতে: প্রতিটি মজার লাইনে, প্রতিটি বাবার উদ্ধৃতি করার মধ্যে। এটিই হলো সংস্কৃতি মাধ্যমে অমরত্ব।